পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার রচনা। ১৫ পয়েন্ট ৬ ৭ ৮ ৯ ১০ ১১ ১২ শ্রেণি। পরিবেশ দূষণ হল মানুষের কর্মকান্ডের ফলশ্রুতিতে পরিবেশের উপাদানে অনাকাঙ্খিত পরিবর্তন
ভূমিকা
পরিবেশ মানবসভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সভ্যতার ক্রমবিকাশ থেকেই মানুষ ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে তার পরিবেশ। মানুষের রচিত পরিবেশ তারই সভ্যতার বিবর্তনের ফসল। পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উদ্ভিদ ও প্রাণী জীবনের বিকাশ ঘটে। তাই পরিবেশ ও মানুষের মধ্যে রয়েছে এক নিবিড় যোগসূত্র। কিন্তু দিনদিন বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসছে পরিবেশ-সংকট। মানুষের সৃষ্ট যন্ত্রসভ্যতার গোড়াপত্তন থেকেই চলছে পরিবেশের ওপর মানুষের নির্মম কুঠারাঘাত। ফলে নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতির ভারসাম্য। পরিবেশ দূষণের মাত্রা প্রকট হওয়ার কারণে মানবসভ্যতা আজ হুমকির সম্মুখীন। এ থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। এ লক্ষ্যে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘ ৫ জুনকে ঘোষণা করেছে "বিশ্ব পরিবেশ দিবস" হিসেবে।
![]() |
| পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার (রচনা) |
পরিবেশ দূষণ কি
পরিবেশ দূষণ হল মানুষের কর্মকান্ডের ফলশ্রুতিতে পরিবেশের উপাদানে অনাকাঙ্খিত পরিবর্তন। আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়েই আমাদের পরিবেশ। পরিবেশ কোনো একটি জীবের অস্তিত্ব বা বিকাশের ওপর ক্রিয়াশীল সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতা, যেমন চারপাশের ভৌত অবস্থা, জলবায়ু ও প্রভাববিস্তারকারী অন্যান জীব ও জৈব উপাদান। কোনো কারণে এই পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়াকে পরিবেশ দূষণ বলে। বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণ, মাটি দূষণ, খাদ্য দূষণ, আর্সেনিক দূষণ, তেজস্ক্রিয় দূষণ, ওজোন গ্যাস হ্রাস, গ্রিন হাউস ইফেক্ট ইত্যাদি সবকিছুই পরিবেশ দূষণের অন্তর্ভুক্ত। বস্তুত মানব সৃষ্ট বিভিন্ন কারণই পরিবেশ দূষণের জন্যে বিশেষভাবে দায়ী।
পরিবেশ দূষণ সমস্যা
বিশ্ব পরিবেশের দ্রুত অবনতি হচ্ছে, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে এ অবনতি হয়েছে আরও
দ্রুত। বাংলাদেশে ১৯৯৫ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন পাস হয়েছে। কিন্তু জনবিস্ফোরণ,
বনাঞ্চলের অবক্ষয় ও ঘাটতি এবং শিল্প ও পরিবহ ব্যবস্থার অভাবের দরুন দেশের পরিবেশ
এক জটিল অবস্থার দিকে পৌঁছতে যাচ্ছে। মানুষ নিজের প্রয়োজনে প্রকৃতিকে যেমন কাজে
লাগাচ্ছে বা প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করছে, প্রকৃতিও তেমনি আহত রূপ নিয়ে
মানুষের তথা সমগ্র প্রানপুঞ্জের ঠিক সমপরিমাণ বিরোধিতা করতে তৎপর। শতাব্দীর পর
শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিজয় গৌরবে মোহান্ধ মানুষ পৃথিবীর পরিবেশকে বিষাক্ত করেছে।
আজও করছে। ছড়িয়ে দিচ্ছে ক্ষতিকর সব আবর্জনা। তার ফল হয়েছে বিষময়। পরিবেশ দূষিত
হয়েছে। আর দূষিত পরিবেশ প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাই গোটা জীবজগতের
অস্তিত্বই আজ বিপন্ন। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ মানবসভ্যতার জন্যে বিরাট হুমকি
স্বরূপ। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট পরিবেশবিজ্ঞানী Peter Walliston এর উক্তিটি
প্রণিধানযোগ্য ঃ
Environmental Pollution is a great threat to the existence of living beings on the earth
পরিবেশ দূষণের কারণ
বিভিন্ন কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তম্মধ্যে প্রধান কয়েকটি কারণ
নিন্মরূপঃ
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি
- অপরিকল্পিত নগরায়ন
- বনভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহার
- প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার
- দ্রুত শিল্পায়ন
- সার ও কীটনাশকের ব্যবহার
- বনভূমি উজাড়
- কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ
- গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া
- ওজোন স্তরের ক্রমাবনতি
- অ্যাসিড বৃষ্টি
- অপরিকল্পিত গৃহ নির্মাণ
- দারিদ্র
- প্রসাধন সামগ্রী
- প্লাস্টিক ইত্যাদি
বায়ু দূষণ ও বায় দূষণের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে বায়ু দূষণের বিভিন্ন কারণ
|
| চাঁদপুরের ইট ভাটার একটি চিত্র। ছবিটি তুলেছেন রিমন। সময় ১২ মার্চ, ২০২১ |
পানি দূষণ ও পানি দূষণের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া
![]() |
| পানি দূষণের একটি চিত্র |
পানির উৎস হিসেবে যে-সব নদীর পানি ব্যবহৃত হয়, কোনাে কোনাে সময় সে সবের মধ্যে প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত দূষিত তরল পদার্থ বা পরিত্যক্ত পানি থাকে। নদীর তীরে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ জনপদ শহর। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক চটকল, কাপড় কল, চিনি কল, কাগজের কল, ভেষজ তেলের ইত্যাদি। এইসব কলকারখানার আবর্জনা প্রতিনিয়ত নদনদীর পানিকে দূষিত করছে। দ্রুত শিল্পায়ন বিভিন্ন দেশের পানি সরবরাহের এবং আবর্জনা-নিক্ষেপের সমস্যাকে ক্রমশ জটিল করে তুলেছে। উন্নয়নশীল এবং উন্নত দেশগুলােতে দেখা দিচ্ছে গৃহকার্যে ব্যবহৃত ময়লা পানিকে শােধন করে পুনরায় তা ব্যবহারযােগ্য করে তােলার প্রয়ােজনীয়তা। কিন্তু পরিশ্রুতকরণ ব্যবস্থায় সামান্যতম ত্রুটি থাকলে এ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে গুরুতর রকমের সংক্রমণ ঘটতে পারে। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালকে “ইন্টারন্যাশনাল ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশন” দশক হিসেবে পালন করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কার্যত এ উদ্যোগ নানা কারণ ব্যাহত হয়ে চলেছে।
বাংলাদেশে পানি দূষণের বিভিন্ন কারণ
শব্দদূষণ ও শব্দদূষণের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া
![]() |
| শব্দ দূষণের একটি কাল্পনিক ছবি। |
বাংলাদেশে শব্দ দূষণের বিভিন্ন কারণ
মৃত্তিকাজনিত দূষণ
তেজস্ক্রিয়তাজনিত দূষণ
প্রতিকার ও বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ
- পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ (২০০২) ঘােষণা ও আইন করা হয়েছে।
- টু-স্ট্রোক যানবাহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব যানবাহনের নির্গত ধোঁয়ায় কার্বন-ডাইঅক্সাইড, সিসা, কার্বন এ মনােঅক্সাইডসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল।
- পরিবেশ দূষণরােধে সিএনজি জ্বালানির ব্যবহার আরম্ভ করেছে।
- মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- বনায়ন কর্মসূচির ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
- পরিবেশ আদালত গঠন করা হয়েছে। এ আদালতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে পরিবেশ অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
- সরকার দেশের পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশােধন) বিল ২০০২' এবং পরিবেশ আদালত(সংশােধন) বিল ২০০২' নামে দুটি আইন পাস করেছে।
- জলবায়ুর পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক কর্মশালার আয়ােজন করেছে।
পরিবেশ দূষণ রােধে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়ােজন
- পরিবেশ রক্ষার জন্য দেশে মােট আয়তনের শতকরা ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়ােজন একথা নিশ্চয়ই কারাে অজানা নয়। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারি হিসেব অনুযায়ী ১৬% বনভূমির কথা বলা হলেও প্রকৃতপ্রস্তাবে বনভূমির পরিমাণ রয়েছে মাত্র ৯%। সুতরাং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্যে আমাদের এ মুহূর্তে দেশের মােট আয়তনের ৩০% বনভূমি করা প্রয়ােজন।
- বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর ও পানি বিদ্যুতের মতাে উৎস ব্যবহার করতে হবে। বনভূমি উজাড়করণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে গাছকাটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
- শিল্প-কারখানা, গৃহস্থালি ইত্যাদির বর্জ্য পদার্থ নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। এবং পরবর্তীকালে তা সরকারিভাবে পরিশােধনের ব্যবস্থা করতে হবে।
- কৃষিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
- কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।
- পরিবেশ দূষণ রােধকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি রােধ করতে হবে।
- শিক্ষার হার বাড়াতে হবে।
- সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নতুন নতুন বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণে করণীয়
উপসংহার
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান,জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে,চলে যেতে হবে আমাদের।চলে যাব-তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণপ্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযােগ্য করে যাব আমিনবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।



পয়েন্টে কমপক্ষে ২০টি হলে ভালো হতো।
ReplyDelete